• শাইখুল হাদীস আল্লামা মুফতী মনসূরুল হক (দা: বা:)
    জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া, মুহাম্মাদপুর-ঢাকা।
Sliding_1

( কুরআন ও হাদীসের ) পরিপূর্ণ এলম হাসিলের জন্য পড়ুন !

Sliding_2

( কুরআন ও হাদীসের ) পরিপূর্ণ এলম হাসিলের জন্য পড়ুন !

Sliding_3

( কুরআন ও হাদীসের ) পরিপূর্ণ এলম হাসিলের জন্য পড়ুন!

উপদেশ print

যে ব্যক্তি সুন্নত খুঁজে খুঁজে অনুসরণ করবে তাকে আল্লাহ তা‘আলা অনেক নেয়ামত দান করবেন। তন্মধ্যে

১.ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহ তা‘আলা সাহাবী (রা:) ন্যায় ১ জন শহীদের সওয়াব দান করবেন।
২. তাকে আল্লাহ তা‘আলা প্রিয় পাত্র বানিয়ে নিবেন।
৩. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রিয় পাত্র হয়ে যাবেন।
৪. দুনিয়াতে যত ভাল মানুষ আছে সবাই তাকে মুহাব্বত করবে।
৫. যত আল্লাহ তা‘আলার নাফরমান - বদকার আছে সবাই তাকে ভয় করবে।
৬. আল্লাহ তা‘আলা তার দ্বীন দারীকে মজবুত করে দিবেন।।
৭. গুনাহ বর্জন করা তার কাছে খুব সহজ লাগবে।
৮. বান্দার রিযিকের মধ্যে প্রশস্ততা ও বরকত দান করবেন।

চলতি সপ্তাহের বয়ান (

সর্বোচ্চ পাচটি mp3

সর্বোচ্চ পাচটি mp3

সর্বোচ্চ পাচটি mp3

সর্বোচ্চ পাচটি mp3

সর্বোচ্চ পাচটি mp3

Help
  • বয়ান শুরুর সময়:
  • বয়ানের স্থান:
  • বয়ানের বিষয়:

মহিলাদের করনীয়-বর্জনীয় কাজ print

  • মহিলাদের করনীয় কাজ এবং বর্জনীয় অভ্যাস

    ১.ঈমান-আক্বীদা পরিশুদ্ধ করা। ২.ইবাদত বন্দেগী সুন্নাত তরীকায় করা। ৩.স্বামীর খেদমত করা। ৪.স্বামীর বৈধ হুকুম মান্য করা। ৫.স্বামীর মালের হেফাযত করা। ৬.নিজেকে পরিপূর্ণ ভাবে পর্দায় রাখা। ৭.সন্তান লালন-পালন ও দ্বীনী শিক্ষা-দীক্ষা দেওয়া। ৮.মহিলাদের মধ্যে দ্বীনী দাওয়াত পেশ করা ও দ্বীনের জরুরী কথার তালীম করা।

    বর্জনীয় অভ্যাস

    ১. জরুরী আকায়িদ, ইবাদত, সহীহ কুরআন তিলাওয়াত , পিতা-মাতা, স্বামীর হক ও সন্তানের হক সম্পর্কে ইলম হাসিল করে না, অথচ জরুরত পরিমাণ ইলম অর্জন করা ফরয। ২. সময়ের পাবন্দি করে না। ৩. দুই তিন জন একত্রিত হলে অন্যের দোষ চর্চায় লিপ্ত হয়। ৪. আপোসে সালাম দেয়ার অভ্যাস খুবই কম। ৫. চোগলখুরি তথা একের কথা অন্যের কাছে লাগনো অনেক মেয়েদের একটা বদ অভ্যাস। ৬. সাধারণত মেয়েদের মধ্যে নিজেকে প্রদর্শনের মানসিকতা অধিক লক্ষ্য করা যায়। ৭. বর্তমান মেয়েরা সাজ-সজ্জার নামে অনেক নাজায়িয ও হারাম কাজ করে থাকে। ৮. মেয়েদের জন্য সমস্ত শরীর আবৃতকারী মোটা কাপড়ের এমন ঢিলেঢালা পোষাক পরা জরুরী যাতে করে শরীরের রং, ভাজ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আকার আকৃতি বোঝা না যায় । ৯. অনেক মেয়েরা বাহিরে পর্দা করে বের হলেও পরিবারিক জীবনে পর্দার ধার ধারে না। ১০. অনেকে বোরকা পরিধান করে কিন্তু চেহারা খোলা রাখে অথচ চেহারা সকল সৌন্দর্যের সমষ্টি; চেহারা আবৃত করা জরুরী। ১১. কোথাও কোন প্রয়োজনে যেতে হলে, অযথা ঘোরাঘুরি করে যাত্রা বিলম্ব করে । ১২. হাতে টাকা থাকুক বা না থাকুক, কোন কিছু পছন্দ হলে তা অপ্রয়োজনীয় হলেও কিনতে হবে। ১৩. কেউ কোন উপকার করলে তার শুকরিয়া আদায় করে না। বিশেষত: ঘরের বউ-ঝিরা প্রশংসার যোগ্য কোন কাজ করলেও শাশুড়ি কিংবা ননদরা তার শুকরিয়া আদায় করে না। ১৪. শাশুড়িরা অনেক সময় পুত্রবধূদের কাজের মেয়ের মত মনে করে, কখনোই নিজের মেয়ের মত মনে করতে পারে না। ১৫. পুত্রবধূরাও শাশুড়িদেরকে নিজ মায়ের মত ভাবতে পারে না। শাশুড়িকে তার প্রাপ্য অধিকার ও সম্মান থেকে বঞ্চিত করে। ১৬. স্ত্রীরা স্বামীর ইহসান তথা দয়া ও অনুগ্রহ স্বীকার করতে চায় না। ১৭. স্বামীর স্ত্রীর জন্য পছন্দ করে কোন জিনিস আনল, কিন্তু ঘটনাক্রমে স্ত্রীর তা পছন্দ হল না, তখন স্ত্রী স্বামীর মুখের উপর বলে দেয় আমার এটা পছন্দ হয়নি; আমি এটা পরবও না ছুইবও না। ১৮. অনেক সময় টাকা, গহনা ইত্যাদি মূল্যবান জিনিস বালিশের নিচে বা খোলা যায়গায় রেখে দেয়, পরে হারিয়ে গেলে পরিবারের নিরাপরাধ লোকদের দোষারোপ করতে থাকে। যা মারাত্বক গুনাহ। ১৯. মহিলাদের মধ্যে কর্মতৎপরতা ও দূরদর্শিতার বেশ অভাব রয়েছে ; ব্যস্ততার সময়ে কোন কাজ তারা ঝটপট করতে পারে না; গতিমন্থরতা যেন তাদের একটা অংশ। ২০. দুই ব্যক্তি কোন বিষয়ে আলাপ করতে থাকলে অনেক মহিলা অযাচিতভাবে সেই কথায় অংশগ্রহণ করে এবং পরামর্শ দিতে থাকে। ২১. কোন কোন মহিলা মেয়েমহল থেকে এসে অন্য মহিলাদের অলংকার, শারীরিক গঠন, রূপ, পোশাক ইত্যাদির বর্ণনা নিজ স্বামীর কাছে করে থাকে। ২২. কারো সাথে কথা বলার প্রয়োজন হলে সে যত জরুরী কথা বা কাজেই লিপ্ত থাকুক না কেন সে দিকে খেয়াল না করে সে নিজের কথা বলবেই, ঐব্যক্তির কাজ বা কথা শেষ হওয়ার অপেক্ষা করে না। ২৩. কেউ কিছু বললে পূর্ণ মনোযোগ সহকারে কথাগুলো শোনে না; এর মাঝে অন্য কাজ করতে থাকে বা ফাঁকে ফাঁকে কারো কথার উত্তর দিতে থাকে ২৪. নিজের ভুল-ত্রুটি পূর্ণ মনোযোগ করতে চায় না। বরং যথাসম্ভব কথার ফুলঝুরি দিয়ে দোষ চাপা দিতে চায়; চাই তার কথার মধ্যে যুক্তি থাক বা না থাক। ২৫. কোন কথা বা সংবাদ বলতে গেলে অসম্পূর্ণ বলে থাকে, যদ্দরুন ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয় এবং আসল কাজ ব্যাহত হয়। ২৬. এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার বা আসার সময় অনেক মহিলা অবশ্যই একটু কাঁদবে। ২৭. অলসতাবশত: ফরয গোসল করতে দেরি করা মেয়েদের একটা চিরাচরিত অভ্যাস। ২৮. বর্তমান আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতা মেয়েরা উযু গোসল সম্পর্কীয় মাসআলা মাসায়েল ও জানে না। ২৯. অনেক বোকা মহিলা স্বামীর কর্মস্থান থেকে ফেরার সাথে সাথে তাকে শান্তি পৌঁছানোর পরিবর্তে, তার কানে সংসারের কলহ বিবাদের কথা পৌঁছায়। ৩০. অনেক ননদ ভাই বৌদের সহ্য করতে পারে না, এমনিভাবে আনেক ভাই বৌ ননদদের সহ্য করতে পারে না। ৩১. অনেক মেয়েলোক পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যপারে উদাসীন থাকে। ৩২. কোন সন্তানকে হয়ত বেশী মহব্বত করে তার জন্য অনেক কিছু করে , এমনকি তার দোষ সহ্য করতে চায় না। ৩৩. অনেক মহিলা রোগ শোক চাপা দিয়ে রাখে, কাউকে বলে না। ৩৪. অনেক শিক্ষিতা মহিলা স্বামীর ঘরে আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব পালন করার চেয়ে বাইরে গিয়ে চাকুরী করাকে বেশি পছন্দ করে।

বিশেষ কয়েকটি আমল print

  • কুরআন ও হাদীসের আলোকে হযরতওয়ালা ( দা: বা: ) এর বিশেষ কয়েকটি আমল

    ১. ফজরের নামাযের পর কয়েক মিনিট মৃত্যু, কবর ও হাশরের ময়দানের মুরাকাবা করা। ২. এই দু’আ (( اَللّهُمَّ اِنِّىاَسألُكَ فِعلَ الخَيرَتِ وَتركِ المُنكِرَاتِ) ) করবে। এরপর জরুরত অনুযায়ী দ্বীন ও দুনিয়ার যে কোন কাজে লাগবে। ৩. দ্বীন দুনিয়ার যে কোন কাজ করবে সেখানে আল্লাহর হুকুম ও নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সুন্নাত আছে কিনা দেখা এবং আল্লাহপাকের নাফরমানী তথা গুনাহ থেকে খুব সতকর্তার সাথে বিরত থাকা। ৪. (রাত্রে) বিছানায় সুন্নাত তরীকায় শুয়ে ঘুমানোর আগে ২ হতে ৩ মিনিট সারা দিনের আমলর হিসাব নেওয়া। অর্থাত, নিম্নোক্ত বিষয় গুলো লক্ষ্য রাখবে। * সারা দিনের ভুল (গুনাহ) কাজের জন্য আল্লাহপাকের কাছে তাওবা করা। (কিতাবুল ঈমানের তাওবার ৩ শর্ত দেখুন পৃঃ ৫৫) * সারা দিনের সহীহ কাজের জন্য আল্লাহপাকের কাছে শুকরিয়া আদায় করা। * পরবর্তী দিনের জন্য সহীহভাবে কাজ-কর্ম করার নিয়্যত করা। উপরোক্ত আমলের বদৌলতে যদি সে এ রাতে মারা যায় তবে সে জান্নাতী হবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহওয়ালাগন তাঁদের অভিজ্ঞার আলোকে বলেনঃ ৫. নিম্নোক্ত তিনটি সন্নাতের উপর গুরুত্ব সহকারে আমল করতে পারলে অন্যান্য সুন্নাতের উপর আমল করা সহজ হয়ে যায়- ১ম সুন্নাত: সালামকে ব্যাপক করা এবং আগে আগে (সহীহ ভাবে সালাম দেওয়া।) হাদীসে আছে “যে ব্যক্তি আগে আগে সালাম দিবে আল্লাহপাক তাকে অহংকার হতে মুক্তি দিবেন।” ২য় সুন্নাত: কোনটা উন্নত আর কোনটা নিম্নমানের কাজ তা বিচার করে উন্নত কাজ ও স্থানে ডান দিককে (ডান হাত/ডান পা) এবং নিম্নমানের কাজ ও স্থানে বা দিককে (বাম পা/বাম হাত) প্রাধান্য দেওয়া। ৩য় সুন্নাত: আল্লাহপাকের যিকির বেশী বেশী করা। অর্থাত, ক. প্রতিদিন কুরআন শরীফ হতে কিছু না কিছু তোওয়াত করা। (কুরআনকে সহীহ করা, সম্ভব হলে এক মাস জামিআ রাহমানিয়া মাদরাসায় হারদুই ট্রেনিং নেওয়া) দেখে পড়া ভাল অন্যথায় যে সূরা মুখস্ত আছে সেটা হাঁটতে হাঁটতে বা গাড়ীতে পড়তে থাকা। খ. ফরয নামাযের শেষে কিছু ওজীফা পড়া- * তিনবার এস্তেগফার পড়া। (মুসলিম-হাদীস নং ৫৯১), * একবার আয়াতুল কুরছী পড়া। (সুনানে কুবরা, হাদীস নং ৯৮৪৮), * তাসবীহ ফাতেমী। (( ৩৩ বার سُبحَا نَ ا لله, ৩৩ বার اَلحَمدُ لِلّهِ , ৩৪ বার اَللهُ اَكبَر ) উক্ত আমলসমূহ পাঁচ ওয়াক্তেই করবে। * ৭ বার (কথা বলার পূর্বে) (اَللّهُمَّ اَجِر نِى مِنَ النَّارِ ) (মুঃ আহমাদ হাদীস নং ১৮০৫৪) * সূরা হাশরের শেষ ৩ আয়াত পড়তে হবে। (মুঃ আহমাদ হাদীস নং ২০৩০৬) গ. প্রতি দিন কালেমা সুওম (১০০ বার), সহীহ দুরুদ (১০০ বার), এস্তেগফার (১০০ বার) (মুসলিম হাদীস নং ২৬৯২) ঘ. রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), যেখানে যে দু‘আ পড়েছেন সেখানে সে দু‘আ পড়া (লেখকের মসনূন দুআ ও দরুদ পুস্তাকাটি দেখে মুখস্ত করা যেতে পারে।) ঙ. উপরের দিকে উঠতে- (Ò اَ للهُ اَكبَر Ó ) নিচের দিকে নামতে- (Òسُبحَا نَ ا للهِ Ó ) সমান জায়গায় চলতে- (Ò لاَ اِلَهَ اِللهُ Ó ) (দাঃ কুতনী-২/২৩৩, মাউসুআহ-৬/৪৭৫) ৬. ফজরের পর সূরা ইয়াসীন পড়া। ফায়দাঃ একবার সূরা ইয়াসীন পড়েলে ১০ বার কুর’আন খতমের সওয়াব পাওয়া যায়। (তিরমিযী তাদীস নং ২৮৮৭) ৭. চার রাকাআত করে ইশরাক ও চাশতের নামায পড়া (সময়ঃ বেলা উঠার ১৫ মিনিট পর থেকে দ্বিপ্রহরের ৫ মিনিট পূর্ব পর্যন্ত) (উত্তম সময়ঃ বেলা উঠার এক/দেড় ঘন্টার পর (ইশরাক পড়া এবং বেলা ১০/১১ টায় চাশতের নামায পড়া।) ফায়দাঃ ইশরাকের প্রথম দু’রাকাআতে ১টা কবুল হজ্জের নেকী এবং ২য় দু’রাআকাতে আল্লাহপাক তার সারা দিনের জিম্মাদারী নিয়ে নিবেন। (তিরমিযী হাদীস নং ৫৮৬; হাদীস নং ৪৭৫) ৮. যহরের নামায এর সময় শুরু হওয়ার সাথে সাথে যাওয়ালের নামায পড়া। (রাকাআতের সংখ্যাঃ ২ কিংবা ৪ রাকাআত) ফায়দাঃ আল্লাহপাক এ সময় আসমানের সব দরজা খুলে দেন এবং আছানীর সাথে সব ইবাদত বন্দেগী ও দু’আ কবুল হয়ে যায়। (তিরমিযী হাদীস নং ৪৭৮) ৯. মাগরিবের ফরযের পর ৬ রাকাআত আওয়াবীন নামায পড়া। (বিঃদ্রঃ মাসআলা-কেউ যদি দু’রাকাআত সুন্নত সহ বাকী ২,২ রাকাআত নফল নামায পড়ে তবে তার ৬ রাকাআত আওয়াবীন হয়ে যাবে।) ফায়দাঃ আল্লাহপাক তাকে একটানা ১২ বছর ইবাদত করার সওয়াব দিবেন (তিরমিযী হাদীস নং ৪৩৫) ১০. সূরা ওয়াকিয়াহ পড়া। সময়ঃ মাগরিবের পর থেকে ইশার আগ পর্যন্ত। ফায়দাঃ আল্লাহপাক রিযিকের মধ্যে প্রশস্ততা ও বরকত দান করবেন। (তাফসীরে ইবনে কাসীর-পৃঃ ৪/২৯৭) ১১. ইশার পর সূরা মুলক পড়া। ফায়দাঃ আল্লাহপাক কবরের আযাব কেয়ামত পর্যন্ত মাফ করে দিবেন। (তিরমিযী হাদীস নং ২৮৭৫) ১২. তাহাজ্জুদ নামায পড়া। তাহাজ্জুদের উত্তম সময় হলো সুবহে সাদিকের ২ ঘন্টা আগে থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত যে কোন সময়।

    তাহাজ্জুদের ফায়দাঃ

    ক. পূববর্তী সকল নবী ওলীদের আমল ছিল, খ. আল্লাহপাকের অত্যান্ত নৈকট্য লাভ হয়। গ. গুনাহ হতে বাঁচার তাওফিক হয়, ঘ. আল্লাহপাক এ সময় প্রথম আসমানে এসে ডাকতে থাকেন। (তিরমিযী হাদীস নং ২১৭; তিরমিযী হাদীস নং ৩৫৪৯) ১৩. বাসায় তালীম করতে থাকা (বিশেষ করে কিতাবুল ঈমানের গুনাহের অধ্যায় পড়া ও নিজের গুনাহের আলাদা লিষ্ট করা এবং কোন হক্কানী পীরের পরামর্শ অনুযায়ী তা পরিহার করা) (তাফসীরে তবারী-১৫/১৮৫) ১৪. নিজ আত্নীয়স্বজন মহল্লাবাসী এবং বন্ধু-বান্ধবদের নিকট দ্বীনের দাওয়াত পেশ করা এবং দ্বীনের জরুরী কথার তালীম করা।(রহুল মআনী-১৪/২৩২) ১৫. আল্লাহওয়ালাদের সুহবতে বসা এবং তাদের সাথে ইসলাহী সম্পর্ক করে নিজের অন্তরের রোগসমূহের চিকিতসা করা। (তাফসীরে রহুর মাআনী-৬/৮১)

বিশেষ দিনের আমলprint

  • জুম্‘আর নামাযের উদ্দেশ্যে ৬ টি কাজ করতে হবে -

    ১. জুম্‘আর নামাযের উদ্দেশ্যে গোসল করা । ২. আযানের পূর্বেই মসজিদে রওনা হওয়া। ৩. পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া। ৪. ঈমাম সাহেবের কাছাকাছি বসা অর্থাৎ স্থান পেলে ১ম কাতারে নতুবা ২য় কাতারে বসা। ৫. উভয় খুতবা মনযোগ সহকারে শুনা। ৬. খুতবার সময় কোন কথা বা কাজ না করা। ফায়দা : প্রত্যেক কদমে ১ বৎসর নফল রোজার ও ১ বৎসর নফল নামাযের সাওয়াব পাওয়া যাবে। ( তিরমিযী-পৃষ্ঠা: ১৩১.হাদীস নং: ৪৯২)(বিঃদ্রঃ বিস্তারিত নবীজী সুন্নত বই এর পৃষ্ঠা: ৪০)

    জুমাআর দিনের অন্যান্য আমল

    ২. সূরা কাহাফ পড়া। (কমপক্ষে ১০ আয়াত) (মুসলিম হাদীস নং ৮০৯; তাফসীরে ইবনে কাসীর-৩/৭৯) ফায়দাঃ দাজ্জালের ফিতনা হতে রক্ষা পাওয়া যায়। ৩. সালাতুল তাসবীহ নামায পড়া। রাকাআতঃ এক সাথে ৪ রাকাত অথবা, ২,২ রাকাআত করে পড়া।
    (আবু দাঊদ হাদীস নং ১২৯৭) ফায়দাঃ সকল প্রকার গুনাহ থেকে মাফ পাওয়া যায়। ৪. উত্তম পোশাক ও খুশবু লাগিয়ে নামাযে আসা। (বুখারী হাদীস নং ৮৮৩, ৮৮৬) খুশবু ব্যবহারে নিম্নোক্ত নিয়্যত করা • এটা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাত। • আমাদের শরীরের ঘামের গন্ধ হতে যাতে অন্যদের কষ্ট না হয়। • মুসলমান ভাইদের অন্তর খুশি করা। • হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন –”যারা গরীব, খুশবু কেনার টাকা নেই, তাদের জন্য গোসল হচ্ছে খুশবু।” ৫. দুই খুতবার মাঝে যখন ঈমাম সাহেব বসে তখন অন্তরে দু’আ করা, মুখে নয়। (তিরমিযী হাদীস নং ৫২৮) ফায়দাঃ এ সময় দু’আ কবুল হওয়অর ওয়াদা রয়েছে। ৬. আছরের পর ৮০ বার এই দুরুদ শরীফ পড়া- اَللّهُمَّ صَلِّ عَلى مُحَمَّدِنِ ا لنَّبِىِّ الاُمِّىِّ وَعَلىاَلِه وَسَلِّمُ تَسلِيمً (আদদুররু মানযুদ ফিন সালাতি ওয়াস সালামি আলা সহিবিল মাকামিল মাহমুদ-পৃষ্ঠা ১৬০) ফায়দাঃ আল্লাহপাক ৮০ বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন। যদি গুনাহ না থাকে তবে জান্নাতে তার মর্তবা বৃদ্ধি করবেন এবং তার আমল নামায় ৮০ বতসরের ইবাদতের সওয়াব লিখে দিবেন ৭. বেলা ডোবার আগে (মাগরিবের) ১০/১৫ মিনিট আগে মসজিদে এসে দা’আয় মশগুল হওয়া। (আবু দাউদ-হাদীস নং ১০৪৮) ফায়দাঃ এ সময়ও দু’আ কবুল হওয়ার ওয়অদা রয়েছে। ৮. এ দিনে অন্য দিনের তুলনায় বেশী দুরুদ পড়া।
    (আবু দাউদ হাদীস নং ১০৪৭)

সাপ্তাহিক আর্টিকেল print

  • আত্মার ব্যাধির চিকিৎসা ফরয

    বহু মুসলমানদের মাঝে যারা আজ দ্বীনের মেহনতের সাথে জরিত অথবা জরিত না উভয়দ্বয়ের মাঝে আত্মশুদ্ধি অথবা ইসলাহ সম্পর্কে বিভ্রান্তি মুলক বহু কথা ছড়িয়ে আছে, যা মুসলমানদেরকে শুধু বিপদে না বরং জাহান্নামের দিকে ধাবিত করছে। আশা করি নিম্মোক্ত আর্টিকেলটি “আত্মার ব্যাধির চিকিৎসা ফরয” সমস্ত মুসলমানদের বিভ্রান্তি ও ভুল ধারনা পরিসমাপ্তি ঘটfবে। ইনশাআল্লাহ। ১. হযরত নুমান বিন বাশীর (রা.) বলেন, নবীজী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "শুনে রেখো নিশ্চয়ই শরীরে এমন একটি গোশতের টুকরা আছে যখন তা সুস্থ থাকে তখন গোটা শরীরই সুস্থ থাকে। আর যখন তা রোগাক্রানত্ম থাকে তখন গোটা শরীরই অসুস্থ থাকে। শুনে রেখো সেই গোশতের টুকরা হল কলব তথা আত্মা। ( বুখারী শরীফ হা.নং-৫২, হাদীসটি দীর্ঘ একটি হাদীসের অংশ বিশেষ।) ২. হযরত উকবা ইবনে আমের (রা.) বলেন, "একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং বললাম, নাজাতের উপায় কি? তিনি বললেন, নিজের জিহ্বাকে সংযত রাখো, নিজের ঘরে পড়ে থাক এবং নিজের পাপের জন্য কাঁদো । ( তিরমিযী হা.নং২৪০৬) ৩. হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রা.) রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, "যখন আদম সন্তান ভোরে ওঠে তখন তার অঙ্গসমূহ জিহ্বাকে বিনয়ের সাথে বলে, আমাদের সম্পর্কে আল্লাহকে ভয় কর। কেননা আমরা সবাই তোমার সাথে জড়িত। সুতরাং তুমি ঠিক থাকলে আমরাও ঠিক থাকব। আর তুমি বাঁকা হইলে আমরাও বাঁকা হয়ে পড়ব’। ( তিরমিযী হা.নং-২৪০৭) ৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যখন কোনো বান্দা মিথ্যা বলে তখন এর দুর্গন্ধে ফেরেশতারা তার নিকট থেকে এক মাইল দূরে চলে যায়’। (তিরমিযী হা.নং-১৯৭২) ৫. হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললাম, সাফিয়্যা সম্পর্কে আপনাকে এইটুকু বলাই যথেষ্ট যে, সে এইরূপ এইরূপ। তিনি এর দ্বারা বুঝাতে চেয়ে ছিলেন যে, তিনি বেঁটে। রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘যদি তোমার এই কথাকে সমুদ্রে মিশিয়ে দেওয়া হয় তাহলে এটা সমুদ্রের রং পরিবর্তন করে দিবে’। (আবূ দাঊদ হা.নং-৪৮৭৫) ৬. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা কোনো (মুসলমান) ভাইয়ের সাথে ঝগড়া-বিবাদ করবে না, ঠাট্টা করবে না এবং এমন ওয়াদা করবে না যা রক্ষা করতে পারবে না’। (তিরমিযী হা.নং -১৯৯৫) ৭. হযরত আবূ হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ তোমরা বদ ধারণা করা থেকে বেঁচে থাকো। কারণ ধারণা হচ্ছে নিকৃষ্ট মিথ্যা। তোমরা আঁড়ি পেত না, গোপন দোষ অন্বেষণ কর না, হিংসা কর না, বিদ্বেষ পোষণ কর না, সম্পর্কচ্ছেদ কর না, হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা ভাই ভাই হয়ে যাও’। (বুখারী হা.নং -৫১৪৩) ৮. হযরত আবূ হুরাইরা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাকো, কেননা হিংসা নেক আমলকে এমনভাবে খেয়ে ফেলে যেমন আগুন কাঠকে খেয়ে ফেলে’। (আবূ দাঊদ হা.নং -৮৯০৩) ৯. হযরত জাবের (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,‘ তোমরা জুলুম থেকে বেঁচে থাকো। কেননা জুলুম কিয়ামাতের দিন বহুমুখী অন্ধকারের রূপ ধারণ করবে। আর তোমরা লোভ এবং কৃপণতা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা লোভ ও কৃপণতা তোমাদের পূর্ববর্তীদের ধ্বংস করেছে। লোভ ও কৃপণতার বশবর্তী হয়ে তারা পরস্পর রক্ত পাত করেছে এবং নিজেদের উপর হারাম বস্তুকে হালাল করেছে’। (মুসলিম হা.নং -২৫৭৮) ১০. হযরত জুনদুব বিন আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের নেক আমল মানুষের কাছে প্রকাশ করে আল্লাহ তাআলা কিয়ামাতের দিন তাকে লাঞ্ছিত করবেন। আর যে ব্যক্তি এই জন্য লোক সম্মুখে নিজের নেক আমল প্রকাশ করে যে, মানুষ তাকে মহৎ মনে করবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামাতের দিন তার অন্তরের অবস্থা সকলের সামনে প্রকাশ করে দিবেন’। (বুখারী হা.নং -৬৪৯৯) ১১. হযরত আবূ হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বললেন, ‘রাগ করো না’। সে কয়েকবার এই কথা জিজ্ঞাস করল, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও প্রত্যেক বার একই জবাব দিলেন যে ‘তুমি রাগ করো না’। (বুখারী হা.নং-৬১১৬) ১২. হযরত আবূ হুরাইরা (রা.) থেকে আরো বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ অন্যকে ধরাশায়ী করতে পারলেই বীর হওয়া যায় না; বরং প্রকৃত বীর হলো ঐ ব্যক্তি, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে’। (বুখারী হা.নং - ৬১১৪) ১৩. হযরত বাহায ইবনে হাকীম (রা.) তাঁর পিতার সূত্রে তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ক্রোধ ঈমানকে এমনভাবে বিনষ্ট করে, যেমনিভাবে ‘ছাবীর’ মধুকে বিনষ্ট করে দেয়’। ( ছাবীর এক প্রকার তিতা ফল, আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে তা পাওয়া যায়।) (তিমিযী হা.নং - ৮২৯৪) ১৪. হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের রসনাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, আল্লাহ তার দোষ-ত্রুটি ঢেকে রাখেন। আর যে ব্যক্তি নিজের গোস্‌সা দমন করে রাখে, কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাআলা তার উপর থেকে আযাব সরিয়ে রাখবেন। আর যে ব্যক্তি নিজের অপরাধের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা চায়, আল্লাহ পাক তার ওযর কবূল করেন’। (শুআবুল ঈমান হা.নং-৭৯৫৯) ১৫. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘এমন কোনো ব্যক্তি দোযখে প্রবেশ করবে না যার অন্তরে সরিষা পরিমাণ ঈমান থাকবে। পক্ষান্তরে এমন কোনো ব্যক্তি বেহেশতে প্রবেশ করবে না যার অন্তরে সরিষা পরিমাণ অহংকার থাকবে’। (মুসলিম হা.নং - ৯১) ১৬. হযরত আবূ হুরাইরা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা বলেন, অহংকার আমার চাদর এবং শ্রেষ্ঠত্ব আমার ইযার। সুতরাং যে ব্যক্তি এর কোনো একটি নিয়ে আমার সাথে টানাটানি করবে, আমি তাকে দোযখে ঢুকাব। অপর একটি বর্ণনায় আছে তাকে আমি দোযখে নিক্ষেপ করব’। (মুসলিম হা.নং – ২৬২০) ১৭. হযরত সালামা ইবনুল আকওয়া (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মানুষ এমনভাবে আত্মগর্বে লিপ্ত হয়ে পড়ে যে, অবশেষে তার নাম উদ্ধত-অহংকারীদের মধ্যে লিপিবদ্ধ হয়ে যায়, ফলে তার উপর সেই আযাবই নেমে আসে যা তাদের উপর নেমে থাকে’। (তিরমিযী হা.নং – ২০০০) ১৮. হযরত আবূ সাঈদ (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের পন্থাগুলি এক এক বিঘত ও এক এক হাত পরিমাণে অনুসরণ করে চলবে, এমনকি তারা যদি গুঁই সাপের গর্তেও ঢুকে থাকে তাহলে তোমরাও এব্যাপারে তাদের অনুসরণ করবে। জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তারা কি ইহুদ ও নাসারা! তিনি বললেন, তবে আর কারা!? (বুখারী হা.নং - ৩৪৫৬) আত্মশুদ্ধির জন্য বাই‘আত হওয়া বিদ্‌‘আত নয় বরং জরুরী عن عوف بن مالک الأشجعیؓ قال : کنا عند رسول اللہ ۔ ﷺ ۔ تسعۃ أو ثما نیۃ أو سبعۃ فقال : ألا تبایعون رسول اللہ ؟ ۔ ﷺ ۔ وکنا حدیث عہد ببیعۃ فقلنا : قد بایعناک یا رسول اللہ ! ثم قال: ألا تبا یعون رسول اللہ ؟ فقلنا : قد با یعناک یا رسول اللہ ! ثم قال : ألا تبا یعون رسول اللہ ؟ قال فبسطنا أیدینا و قلنا : قد با یعناک یا رسول اللہ فعلام نبایعک ؟ قال : علی أن تعبدوا اللہ و لا تشرکوا بہ شیئا و الصلوات الخمس و تطیعوا و لا تسألوا الناس شیئا. فلقد رأیت بعض أولئک النفر یسقط سوط أحدہم فما یسأل احدا یناولہ إیاہ . رواہ مسلم فی’’ صحیحہ ‘‘ برقم ( ۱۰۴۳) کتاب الزکوۃ ‘ باب کراہیۃ المسئلۃ للناس . অর্থ: হযরত আউফ ইবনে মালেক আল আশজাঈ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা নয় জন বা আট জন বা সাত জন প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অবস্থান করছিলাম। ইত্যবসরে তিনি বললেন: তোমরা কি রাসূলুল্লাহর হাতে বাই‘আত হবে না? (সাহাবী বললেন) যেহেতু আমরা সবেমাত্র বাইআত হয়েছি, তাই বললাম: ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরাতো আপনার হাতে বাইআত হয়েছি। তিনি পুনরায় বললেন: “তোমরা কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে বাইআত হবে না?” আমরা আবারো বললাম ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা তো বাই‘আত হয়েছি। তিনি পূনঃ বললেনঃ তোমরা কি রাসূলুল্লাহর নিকট বাই‘আত হবেনা?” তিনি বলেন: এবার আমরা আমাদের হাত সম্প্রসারিত করলাম এবং বললাম ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরাতো আপনার নিকট বাই‘আত গ্রহণ করেছি। তাই এখন কিসের ভিত্তিতে বাই‘আত হব? তিনি জবাব দিলেন: “এ কথার উপর বাই‘আত গ্রহণ করবে যে, আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করবে, অর্থাৎ, একত্ববাদ এর উপর অটল থাকবে, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরীক করবে না। পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়বে, আমার আনূগত্য করবে এবং লোকদের নিকট কিছু চাইবে না”। (রাবী বলেন:) এর পর সে জামা‘আতের অনেককে আমি দেখেছি যে (আরোহী অবস্থায়) তাঁদের হাত থেকে চাবুক পড়ে গিয়েছে, কিন্তু কারো কাছে এটা চাননি যে, সে চাবুকটি তার হাতে তুলে দিক। সূত্র্র: মুসলিম শরীফ হাদীস নং (১০৪৩) আবূ দাউদ শরীফ হাদীস নং (১১৪২) নাসাঈ শরীফ হাদীস নং (৪৬০) ইবনে মাজাহ শরীফ ৩/৩৯৮(২৮৬৭) প্রকাশ থাকে যে, আলোচ্য হাদীসে সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, সাহাবীদের (রাযিঃ) এ বাই‘আত ইসলাম গ্রহণের জন্য বা জিহাদের জন্য ছিলনা। কারণ, তারা আগেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। অমি বাই‘আতে শব্দের মধ্যেও জিহাদের কোন উল্লেখ নাই। সুতরাং এটা ছিল ইসলামের উপর টিকে থাকার জন্য বাই‘আত। আর সুফীগণের বাই‘আতের উদ্দেশ্যও তাই। সুতরাং এটা বিদ‘আত হওয়ার কল্পনাই করা যায়না। যারা এটাকে বিদ‘আত বলে থাকেন এটা তাদের ইলমের স্বল্পতার প্রমাণ। উল্লেখিত হাদীসসমূহ দ্বারা একথা প্রমাণিত হল যে, মানুষের শরীরের মত মানুষের অন্তরও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। যেসব রোগের একেকটি এতবেশি ক্ষতিকর যে, একটি রোগই যে কোনো মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। তাই শরীর রোগাক্রান্ত হলে যেমনি ভাবে আমরা তার চিকিৎসা করে থাকি, তেমনিভাবে আত্মা রোগাক্রান্ত হলে তার চিকিৎসা করাও জরুরী। বরং আত্মার রোগের চিকিৎসা শরীরের রোগের তুলনায় অনেক বেশি জরুরী। কুরআনে পাকে আল্লাহ তাআলা আত্মার রোগের চিকিৎসার গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন: قد افلح من زكها ‘ যে ব্যক্তি আত্মাকে পরিশুদ্ধ করাবে সে সফলকাম হবে ’ (সূরা শামস-৯) এই আয়াতের তাফসীরে হাসান বসরী র. বলেন, معناه: قد افلح من زكى نفسه فاصلحها و حملهاعلى طاعة الله . تفسير المظهرى247/10 অর্থাৎ: নিশ্চয়ই সফলকাম হবে ঐ ব্যক্তি যে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করাবে তথা আত্মাকে সংশোধন করাবে এবং আত্মাকে আল্লাহর আনুগত্যের উপর উদ্বুদ্ধ করবে। (তাফসীরে মাজহারী ১০/২৪৭) এখানে লক্ষণীয় বিষয় হল, আল্লাহ তাআলা আত্মাকে পরিশুদ্ধ করাতে বলেছেন। বুঝা গেল যে, আত্মা একা একা পরিশুদ্ধ হয় না; বরং কোনো আহলে দিল বুযুর্গের মাধ্যমে পরিশুদ্ধ করাতে হয় । তাই সাহাবা কেরাম (রা.) রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে নিজেদের আত্মার চিকিৎসা করিয়েছেন, পরিশুদ্ধ করিয়েছেন। নিজের আত্মার চিকিৎসা নিজে করেননি। তাই আমাদের জন্য ফরয হল কোনো হক্কানী,রব্বানী, নায়েবে নবীর মাধ্যমে নিজ আত্মার চিকিৎসা করানো। শরীরের রোগের চিকিৎসার জন্য যেমনিভাবে আমরা ডাক্তারের দারস্থ হয়ে থাকি ঠিক তেমনিভাবে আত্মার রোগের চিকিৎসার জন্য যারা আত্মার রোগের পরামর্শপত্র দেন তাদের দারস্থ হতে হবে। হ্যাঁ পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, আত্মার রোগের চিকিৎসা করা ফরয আর শরীরের রোগের চিকিৎসা করা সুন্নাত । যারা আত্মার রোগের চিকিৎসা না করেই মারা যাবে তাদের সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: وقد خاب من دسها ‘আর ব্যর্থকর্ম হবে সে যে আত্মাকে (গুনাহের মধ্যে) ধ্বসিয়ে দিবে ’ (সূরা শামস-১০) তাছাড়া ১৮নং হাদীসেও তাদের পরিণতির কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহওয়ালাদের সোহবতে এসে আত্মার চিকিৎসা না করালে ইহুদী-খৃষ্টানদের অনুসরণ করতে বাধ্য করা হবে। আর নিম্ন বর্ণিত হাদীসে আত্মার রোগের চিকিৎসা না করার কারণে শহীদ, আলেম ও দানবীরদের করুণ অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। হযরত আবূ হুরাইরা (রা.) বলেন, নবীজী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কিয়ামাতের দিন সর্বপ্রথম যে ব্যক্তির বিচার করা হবে সে হবে একজন শহীদ (ধর্ম যুদ্ধে প্রাণদানকারী)। তাকে আল্লাহ তাআলার দারবারে আনা হবে। অত:পর আল্লাহ তাআলা তাকে ( প্রথমে দুনিয়াতে প্রদত্ত) নেয়ামাতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন; আর সেও তা (নেয়ামাত প্রাপ্তির কথা) স্বীকার করবে। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, তুমি এসব নেয়ামাতের বিনিময়ে দুনিয়াতে কী আমল করেছ? জবাবে সে বলবে, আমি তোমার সন্তুষ্টির জন্য (কাফিরদের বিরুদ্ধে) লড়াই করেছি। এমনকি শেষ পর্যন্ত শহীদ হয়েছি। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ, তুমি আমার সন্তুষ্টির জন্য লড়াই করনি; বরং তুমি এজন্য লড়াই করেছ যে, তোমাকে বীর বলা হবে। আর তোমাকে তা বলাও হয়েছে। এরপর তার ব্যাপারে (ফেরেশতাদেরকে) আদেশ করা হবে। ফলে তাকে উপুর করে টানতে টানতে জাহান্নামে ফেলে দেওয়া হবে। এরপর এমন ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে যে নিজে দ্বীনী ইলম শিখেছে এবং অন্যকে শিক্ষা দিয়েছে আর সে কুরআন শরীফও পড়েছে। আল্লাহ তাআলা তাকেও দুনিয়ার নেয়ামাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন। সেও তা স্মরণ করবে। অত:পর আল্লাহ তাআলা তাকে জিজ্ঞাসা করবেন, এসব নেয়মাতের শুকরিয়া আদায় করার জন্য তুমি কী আমল করেছ? উত্তরে সে বলবে, আমি ইলম শিখেছি এবং অপরকেও তা শিখিয়েছি। আর তোমার সন্তুষ্টির জন্য কুরআন মাজীদ পড়েছি। আল্লাহ তাআলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। তুমি তো এজন্য ইলম শিখেছ যাতে তোমাকে আলেম বলা হয় আর এজন্য কুরআন পড়েছ যাতে তোমাকে কারী বলা হয়। আর তা তোমাকে বলাও হয়েছে। অত:পর তার সম্পর্কে আদেশ করা হবে। ফলে তাকে উপুর করে টানতে টানতে জাহান্নামে ফেলে দেওয়া হবে। এরপর এমন ব্যক্তির বিচার শুরু হবে যাকে আল্লাহ তাআলা সব ধরণের অর্থ-সম্পদ দান করে বিত্তবান বানিয়ে ছিলেন। তাকে উপস্থিত করা হবে। আল্লাহ তাআলা তাকে তার প্রদত্ত নেয়ামাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন। সেও তা স্বীকার করবে। তখন আল্লাহ তাআলা তাকে জিজ্ঞাসা করবেন, এ সমস্ত নেয়ামাতের মোকাবেলায় তুমি আমার জন্য কী করেছ? সে বলবে, যেসব ক্ষেত্রে ধন-সম্পদ ব্যয় করা তুমি পছন্দ কর তার একটিও আমি হাতছাড়া করিনি। আল্লাহ তাআলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। তুমি তো এজন্য দান করেছ, যাতে করে তোমাকে দানবীর বলা হয়। আর তা তোমাকে বলাও হয়েছে। অত:পর তার সম্পর্কে আদেশ করা হবে। ফলে তাকে উপুর করে টানা হবে অবশেষে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে’। (সহীহ মুসলিম হা.নং -১৯০৫) তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত হলো, নিজ আত্মার ব্যাপারে যত্নবান হওয়া। কোনো হক্কানী পীর বা শায়খকে নিজ আত্মার অবস্থা জানিয়ে আত্মার চিকিৎসা করা। আল্লাহ তাআলা সবাইকে তাওফীক দান করুন। আমীন। পরিশিষ্ট: আত্মার ব্যাধির সম্পর্কে আরও জানতে চাইলে দেখুন “ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া (২য় খন্ড) পৃষ্ঠা: ৪৫৭ - ৪৭৭”

ব্লগ আপডেট

  • পূর্ণ সহায়ক ব্রাউজার
  • সহায়ক ব্রাউজার

মাসিক আর্টিকেল print

  • কুফর, শিরক ও বিদআত

    কুফর এর সংঙ্গা আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যত বিধি-বিধান হাসিল করেছেন এবং অকাট্য দলীল দ্বারা যা প্রমাণিত হয়েছে তার কোন বিষয় সম্মন্ধে অন্তরে সন্দেহ পোষণ করা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা। ( ফাতাওয়ায়ে শামী-৪, পৃষ্ঠা-২২৩) উল্লেখিত কাজেরে দ্বারা ঈমান নষ্ট হয়ে গেলে তার পিছনের জীবনের সকল ইবাদাত বন্দেগী ও আমল নষ্ট হয়ে যায় এবং বিবাহিত হলে তার বিবাহ বাতিল হয়ে যায়। আল্লাহ না করুন এ অবস্থা কারো হলে তার জন্য জরুরী হল, নতুনভাবে কালেমা তাওবা ইস্তেগফার করে পুনরায় ঈমান আনায়ন করে নেয়া এবং বিবাহিত হলে বিবাহও দুহরায়ে নেয়া। কুফরের প্রকারভেদ (১) কুফরে ইনকার: অন্তর এবং যবান উভয়ের মাধ্যমে কোন দ্বীনী বিষয়কে অস্বীকার করা। যেমন- মক্কার কাফের সম্প্রদায়। (২) কুফরে জুহুদ: অন্তরে দ্বীনকে বিশ্বাস রাখা কিন্তু মুখে অস্বীকার করা। যেমন- মদীনার ইয়াহুদ সম্প্রদায়। (৩) কুফরে ইনাদ: অন্তরে দ্বীনকে বিশ্বাস করে এবং মুখেও স্বীকার করে, কিন্তু ইসলামের হুকুম আহকামকে মান্য করে না, অন্যান্য দ্বীন বাতিল হয়ে গিয়েছে তা বিশ্বাস করে না। যেমন- আদমশুমারীর অনেক নামধারী মুসলমান যারা কখনো সহীহ দ্বীনী পরিবেশে আসে না। (৪) কুফরে যানদাকাহ: বাহ্যিকভাবে দ্বীনের সবকিছু স্বীকার করে, কোন বিষয় অস্বীকার করে না কিন্তু দ্বীনের কোন বিষয়ে এমন ব্যাখ্যা প্রদান করে যা উম্মতের ইজমা পরিপন্থি। যেমন- কাদীয়ানীগণ খতমে নবুওয়াতের ভুল ব্যাখ্যা করে তাদের ভন্ড নবীকে প্রমাণ করার অপচেষ্টা চালায়। এমনভাবে কাফেরদেরও বিভিন্ন প্রকার রয়েছে। কাফেরদের প্রকারভেদ: (১) মুনাফেক: যবানে ইসলাম কিন্তু দিলে কুফর। (২) মরতাদ: ইসলাম গ্রহণের পর তা পরিত্যাগ করা। (৩) মুশরিক: একাধিক উপাস্যে বিশ্বাসী। (৪) কিতাবী: অন্যান্য আসমানী কিতাবের বিশ্বাসী ও অনুসারী। (৫) দাহরিয়া: (বস্তুবাদী) যমানা ও প্রকৃতিকে জগতের সৃষ্টিকর্তা হিসাবে বিশ্বাসী এবং পৃথিবীকে অক্ষয় ও চিরস্থায়ী বিশ্বাস করে। (৬) মুআত্তেল: (নাস্তিক) সৃষ্টিকর্তা বলতেই অস্বীকার করে। (৭) যিনদীক: মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও এমন আকীদা পোষণকারী যা সর্বসম্মতিক্রমে কুফর। (ফাতওয়ায়ে শামী-২২৬ খন্ড-৪) কিছু কুফরী আকীদা ও কাজ যার কোনটা দ্বারা কাফের হয়ে যায় আর কোনটা দ্বারা কাফের হয় না কিন্তু মারাত্নক গোনাহগার হয়। (১) কোন মুসলমানকে কাফের বলে বিশ্বাস করা। (ফাতওয়ায়ে শামী-খন্ড-৪ পৃষ্ঠা-৬৯) (২) আল্লাহর শানে এমন আকীদা পোষণ করা যা মানুষের সাথে সম্পৃক্ত। যেমন, সন্তানাদী হওয়া ইত্যাদি। (সূরা ইখলাস) (৩) হুজুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে শেষ নবী বিশ্বাস না করা বা এর অপ-ব্যাখ্যা করা। (শরহুল আকায়িদ-১২৯-১৩০) (৪) দ্বীনের কোন বিষয়কে হেয় ও তুচ্ছ জ্ঞান করা। ঠাট্টা করা ইত্যাদি।(ফাতওয়ায়ে শামী-খন্ড-৫ পৃষ্ঠা-৪৭৪) (৫) আহলে ইলম তথা উলামায়ে কেরামকে হেয় ও তুচ্ছ জ্ঞান করা। (৬) দ্বীনের অকাট্য ও সর্বসম্মত বিষয়ে মনগড়া ব্যাখ্যা করা। (ইকফারুল মুলহিদীন পৃষ্ঠা-৭৩) (৭) উম্মতের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তকে অস্বীকার করা। (শামী খন্ড-৪, পৃষ্ঠা-২২৩) (৮) আম্বিয়ায়ে কেরামের মধ্যে কাউকে গালী দেওয়া বা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা। (শামী খন্ড-২৩১) (৯) সাহাবায়ে কেরামকে গালী দেওয়া বিশেষ করে শাইখাইন তথা হযরত আবূ বকর (রাযি.) ও হযরত উমর (রাযি.) কে গালী দেওয়া।(শামী-৪খন্ড-২৩৬,২৩৭) (১০) আয়েশা (রাযি.) এর প্রতি অপবাদ দেওয়া। (শামী ৪ খন্ড-১৩৭) (১১) কোন অকাট্য হারামকে হালাল বলা। (১২) কাফেরদের শিআরকে (নিদর্শনকে) সম্মান করা। (আদদুররুল মুখতার খন্ড-৬, পৃষ্ঠা-৭৫৪) (১৩) হাসি, মজাক বা ঠাট্টা করে হলেও কালেমায়ে কফুর মুখে উচ্চারণ করা। (ইকফারু মুরহিদীন-২২৫) (১৪) গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ইত্যাদি তন্ত্রে বিশ্বাসী হওয়া। এ জাতীয় আরো অনেক এমন কথা বা কাজ রয়েছে যার কোনটা দ্বারা মানুষ কাফের হয়ে যায়। আবার কোনটা দ্বারা কাফের তো হয় না কিন্তু মারাত্নক গুনাহগার হয়। সুতরাং এগুলো থেকে বেচে থাকা জরুরী। নিম্ন লিখিত কাজগুলো শিরক, এসব হতে দূরে থাকা কর্তব্য (১) কোন পীর বুযুর্গ এমনকি কোন নবী সম্মন্ধে এ রকম আকীদা রাখা যে, তিনি সব সময় আমাদের সব অবস্থা জানেন। (২) জ্যোতিষী, গণকঠাকুরদের নিকট অদৃষ্টের কথা জিজ্ঞাস করা। (৩) কোন পীর বুযুর্গের কবরের নিকট আওলাদ বা অন্য কোন উদ্দেশ্যের কথা জানিয়ে প্রার্থনা করা। (৪) পীর বা কবরকে সিজদা করা। (৫) কোন পীর বুযুর্গের নামে শিরনী সদকা বা মান্নত মানা। (৬) কোন পীর-বুযুর্গের দরগাহ বা কবরের চতুর্দিক দিয়ে তওয়াফ করা। (৭) কোন পীর বুযুর্গ বা অন্য কারো নামে জানোয়ার যবেহ করা বা কারো দোহাই দেয়া। (৮) কোন পীর বুযুর্গ বা অন্য কারো নামে ছেলের নাক, কান ছিদ্র করা, আংটি পরানো, চুল রাখা, টিকা রাখা। (৯) কোন জিনিসের বা ব্যারাম-পীড়ার (রোগের) ছুত লাগে বলে বিশ্বাস করা। (১০) ভালো মন্দ বার বা তারিখ জিজ্ঞাসা করা। যেমন, অনেকে জিজ্ঞাসা করে এই বারে বিবাহ শুভ কিনা? কোন্ দিনে নতুন ঘরে যেতে হয়? রোববারে বাশঁ কাটা যায় কিনা? ইত্যাদি। (১১) পীরের বাড়ি বা কোন বুযুর্গের দরগাহ বা তীর্থকে কাবা শরীফের মত আদব বা তাযিম করা। (১২) কোন জিনিস হতে কুলক্ষণ ধরা বা কুযাত্রা মনে করা। যেমন- যাত্রামুখে কেউ হাঁচি দিলে অনেকে সেটাকে কুযাত্রা মনে করে থাকে। (১৩) কোন দিন বা মানকে অশুভ মনে করা। (১৪) কোন বুযুর্গের নাম অযিফার মত জপ করা। (১৫) কারো নামের কসম খাওয়া বা যিকির করা। কাউকে পরম পূজনীয় সম্বোধন করে লেখা। কষ্ট না করলে কেষ্ট পাওয়া যায় না বলা। জয়কালী নেগাহবান, ইত্যাদি বলা। (১৬) ছবি, ফটো বা মূর্তি রাখা বিশেষ করে কোন বুযুর্গের ফটো তাযীমের জন্য রাখা। কিছু বিদআতের আলোচনা (১) কোন বুযুর্গের মাযারে ধুমধামের সাথে ’উরস’ করা, মেলা বসানো বাতি জ্বালানো। (২) মেয়ে লোকের বিভিন্ন দরগায় যাওয়া। (৩) কবরের উপর চাদর, আগরবাতি, মোমবাতি ও ফল দেওয়া। (৪) কোন বুযুর্গকে সন্তুষ্ট করার জন্যে শরীয়াতের সীমারেখার বেশি তাযীম করা। (৬) কবরে চুমো খাওয়া। (৭) কোন কোন অজ্ঞ লেখক আজমীর শরীফ, বাজেবোস্তান, পীরানে কার্লিয়ার ইত্যাদিকে মুসলমানদের তীর্থস্থান বলে উল্লেখ করেছে, তা দেখে তীর্থ গমনের ন্যায় সেসব স্থানে যাওয়া। (৮) কবরে গম্বুজ বানানো। জাহিলিয়্যাতের কিছু প্রথার বর্ণনা (১) ছেলে-মেয়েদেরকে কুরআন ও উলমে দ্বীন শিক্ষা না দিয়ে মূর্খ বানিয়ে রাখা বা কু-শিক্ষায়, অসত সজ্ঞে লিপ্ত হতে সহায়তা করা। (২) বিধবা বিবাহকে দূষণীয় মনে করা। (৩) বিবাহের সময় সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও সমস্ত দেশাচার-রসম পালন করা। (৪) বিবাহে নাচ-গান করানো। (৫) হিন্দুদের উতসবে যোগদান করা। (৬) মেয়েলোকদের দেবর, ভাসুর, মামাত, ফুফাত, খালাত, চাচাত ভাইদের বা ভগ্নিপতি, বেয়াই, নন্দাই ইত্যাদির সঙ্গে হাসি মশকরা করা বা তাদের সঙ্গে সাক্ষাত করা কিংবা পথে ঘাটে বেড়ানো। (৭) গান-বাদ্য শুনা। (৮) জারি, যাত্রা, কীর্তন,গাজীর গীত, থিয়েটার, বায়োস্কোপ, ষাড় লড়াই, মোরগ লড়াই ইত্যাদিতে যোগদান করা। (৯) সারঙ্গ, বেহালা, হারমোনিয়াম, গ্রামোফোন ইত্যাদি বাজানো বা শুনা। (১০) গান-গীত গাওয়া, বিশেষত খাজাবাবার উরসের নামে গান করা বা শোনাকে সাওয়াবের কাজ মনে করা। (১১) কোন হালাল পেশাকে অপমানের বিষয় মনে করা। যেমন: দপ্তরির কাজ করা, মাঝিগিরি, দর্জিগিরি করা বা মাছ বিক্রি করা ইত্যাদি। (১২) গীত গেয়ে স্ত্রী পুরুষ একত্রিত হয়ে বর কনেকে গোসল দেয়া। (১৩) পুরুষদের জন্য সোনার আংটি, চেইন ইত্যাদি পরা বা পরানো। (১৪) পুরুষদের জন্য হাতে পায়ে বা নখে মেহেদী লাগানো। কিন্তু মেয়েলোকের জন্য মেহেদী লাগানো মুস্তাহান। (১৫) আতশবাজী করা। (১৬) বিবাহে কাগজ কেটে বা কলাগাছ কেটে গেট সাজানো। (১৭) কেউ মরে গেলে চিতকার করে, মুথ বুক পিটিয়ে বা মৃত ব্যক্তির গুণাবলী বর্ণনা করে ক্রন্দন করা। (১৮) ধুতি, হাফপ্যান্ট বা পায়ের গোড়ালী ঢাকা কিংবা টাইট ফিটিং প্যান্ট পরা, বা হ্যাট, টাই পরা। শেষ

আপনার বন্ধুর সাথে শেয়ার করুণ